জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বিএনপি, জামায়াত এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাগুলো নিয়ে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেছেন, জামায়াত নেতাদের দায়মুক্তি ও জাতীয়ভাবে সম্মানিত করতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল রাজনৈতিকভাবে তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি পদক্ষেপ।
বিরোধী দলের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছিল, এমনকি শহীদ মিনারে যাওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিও তার সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয় বলে দাবি করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর মতে, খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই দেননি, বরং বিরোধী শক্তিগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে এনে সম্মানিত করার চেষ্টা করেছেন।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে মীর শাহে আলম বলেন, “আপনি ওই চেয়ারে বসে আছেন মানেই ১৯৭১-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন।” তিনি স্পিকারের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের প্রশংসা করে দাবি করেন, তাকে ওই আসনে বসানোর পেছনেও বিএনপির ভূমিকা রয়েছে।
এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং সরাসরি যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছেন। ট্রেজারি বেঞ্চে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দলে বহু মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, যা বিরোধী দলে অনুপস্থিত।
মীর শাহে আলম তার বক্তব্যে আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনটি বড় আন্দোলন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ‘ট্রফি’ একমাত্র বিএনপির ঘরেই রয়েছে। তার মতে, অন্য কোনো দল এই তিনটি আন্দোলনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই দলটিকে স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যা তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে তুলে ধরেন।
শেষে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুম, খুন, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনরাত কাজ করছেন দেশের উন্নয়নে। এ অবস্থায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









