ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী চৌরাস্তাসংলগ্ন আমবাগিচা এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।
গতকাল শনিবার দুপুর ১টা ১২ মিনিটে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকার ওই গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দুর্ঘটনার খবর জানার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন তিনি। দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। এই প্রাণহানির ক্ষতি অপূরণীয়।’ প্রধানমন্ত্রী হতাহত শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এর মধ্যে তিনজন নারী। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁর নাম মীম আখতার পাখি (১৮)। অন্যদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
তাঁদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার গণমাধ্যমকে আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটগুলো।
প্রথমে তিনটি ইউনিট, আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে আরো চারটি ইউনিট যোগ দেয়। এই সাতটি ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।









