ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে যাতে কোন বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য ঈদের আগে সাত দিন ও পরে পাঁচ দিন ২৪ ঘন্টা তেলের পাম্প খোলা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর সড়কে যানচালাচল পর্যবেক্ষন শেষে গুলিস্থানে বিআরটিসি বাস কাউন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, আমরা দেখলাম নির্দিষ্ট টাইমে বাসগুলো গন্তব্যের দিকে ছেড়ে চাচ্ছে; ভাড়াও নির্ধারিত হারে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। সিডিউল মেনটেন করে বাসগুলো চলছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি বলেছিলাম যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে পাবলিক পরিবহনে এবং সেটা আমি মনে করছি যে আগামীকাল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে এবং সেটাকে কেন্দ্র করে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না হয় ভাড়া বাড়ানো না হয় অগ্রিম টিকিট যাতে ফেরত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা ছিল। আমি যতটুকু সর্বশেষ জেনেছি সেটা কার্যকর হচ্ছে এবং কার্যকর আছে। তেলের কারণে বাসের অগ্রিম টিকেট ফেরত দেওয়ার একটা চেষ্টা রীতিমত হয়েছিল যারা সংকটকে কেন্দ্র করে সেটা করতে চেয়েছিলেন আমরা সেটা করতে দেইনি।
অগ্রিম টিকেট ঠিকই বহল আছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আমরা বলে দেওয়ার পর অগ্রিম টিকেট ফেরত দেওয়া হয় নাই। সড়কে যানবাহন চলাচল ঠিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষ্যে রাস্তাঘাট সংস্কার করে চলাচল উপযোগী রাখা।
‘যে সমস্ত জায়গায় নির্মাণ কাজ চলছিল সেই সব স্থানের নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্তত একটি লেন যাতে কার্যকর থাকে সে ব্যবস্থা ইতিমধ্যে আমরা নিয়েছি’ বলছিলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, যে সমস্ত পাম্প আছে মহাসড়কে সেই সমস্ত পাম্প আগামী ঈদের আগে সাত দিন ঈদের পরে পাঁচ দিন ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি । ২৬০ টি স্পটকে আমরা চিহ্নিত করেছি যেখানে যানজট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেটাকে চিহ্নিত করে আমি পুলিশ বিআরটিএ আমাদের পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে যারা জড়িত স্থানীয় পুলিশ জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার তাদের সমন্বয়ে ওই ২৬০ টি স্পটে যাতে কোন যানজট সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে তড়িত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
শেখ রবিউল আরও বলেছেন, আমরা আজকে সড়ক পর্যক্ষেণ করছি সবকিছু মিলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে আমরা আসন্ন পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে একটা ভালো জনবান্ধব যাত্রা যাত্রীদেরকে উপহার দিতে পারবো। যাত্রীরা আরামদায়কভাবে নির্দিষ্ট সময়ে যাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে; বাড়িতে পৌঁছাতে পারে উদ্বিগ্ন না হয়, ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কে যাতে আটকে না পড়ে সেটার জন্য সরকারের মনোযোগ রয়েছে সর্বাত্মকভাবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে এবং এর সঙ্গে যারা স্টেক হোল্ডার জড়িত আছে তাদের সবাইকে নিয়ে সম্মতভাবে আমরা কাজ করছি।
মন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের ট্রেনের যতটুকু সক্ষমতা আছে যতগুলি কোচ আছে যে লোকবল আছে সেটা দিয়ে এবার ট্রেনের যাত্রী পরিবহন সুষ্টুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। আমি গতকালকে ট্রেনস্টেশনে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে যে ব্যবস্থাপনাটা আমি দেখেছি তা সন্তোষজনক ছিল।
তিনি আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বাড়ানো অথবা অতিরিক্ত কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়ার কোন সুযোগ কারো থাকছে না। আমরা এটা কঠোরভাবে মনিটরিং করছি।









