মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন-এর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল রাখতে অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অতীতে অনেকেই ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতীয় তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব অসঙ্গতি চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের বিরুদ্ধে গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে নাম বাতিলের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার একটি উপকমিটি বিস্তারিত তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদ বাতিলের পাশাপাশি সব ধরনের সরকারি সুবিধা বন্ধের সুপারিশ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রম কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশের যেকোনো স্থান থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে একই নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুরোপুরি স্বচ্ছ ও নির্ভুল না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।









