ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। অধিবেশন বসবে বেলা ১১টায়। তবে এবার সংসদের কার্যক্রম একটু ব্যতিক্রম কেননা স্পিকারের আসন খালি রেখেই বসবে অধিবেশন। বিভিন্ন কারণে এবারের সংসদ অন্য যেকোনো সংসদের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন হতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। আরেকজন সংসদ সদস্য সেই প্রস্তাব সমর্থন করবেন। প্রস্তাবিত সদস্যের সভাপতিত্বেই শুরু হবে অধিবেশনের কার্যক্রম। বিদায়ী সংসদের স্পিকারের পদত্যাগ এবং ওই সংসদের ডেপুটি স্পিকার একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই পদ্ধতিতে অধিবেশনের সূচনা করা হচ্ছে।
প্রথম দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। এরপর অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন এবং নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হবে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনীতির নতুন ইস্যু ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ নিয়েও এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ হবে এই প্রথম অধিবেশনে। প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন।
এর আগে গতকাল সংসদ সচিবালয়ে সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রথমবারের মতো সংসদীয় দলের বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দলের শীর্ষ নেতারা সংসদে দলীয় অবস্থান এবং এমপিদের ভূমিকা নিয়ে পৃথক নির্দেশনা দেন। তবে চলতি সংসদে কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার কিংবা সরকারদলীয় উপনেতা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সরকারি দল এ বিষয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। যদিও বিভিন্ন মহলে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজই।









