চীন যে দেশকে আমরা আধুনিক অট্টালিকা, দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আর প্রযুক্তির শীর্ষে থাকা একটি রাষ্ট্র হিসেবে চিনি, সেই দেশটিরই এক ভিন্ন রূপ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও ও প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন কিছু ধীরগতির ট্রেন চলাচল করে যেখানে যাত্রীদের পাশাপাশি ছাগল, শূকর, মুরগি ও হাঁসও ‘সহযাত্রী’ হিসেবে ভ্রমণ করে। এই ট্রেনগুলোকে বলা হয় জনসেবামূলক বা পাবলিক ওয়েলফেয়ার ট্রেন।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের সিটের মাঝের চলাচলের পথ দিয়ে সারি সারি পশু হেঁটে যাচ্ছে, আর একইসঙ্গে যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একজন ব্লগারের পোস্ট করা ভিডিওতে কয়েকজন মেষপালক তাদের ভেড়া নিয়ে ট্রেনে উঠছেন এমন দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর হলেও স্থানীয়দের জন্য এটি একেবারেই স্বাভাবিক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চীনের সিচুয়ান প্রদেশ এবং লিয়াংশান ই স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচার-এর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এই বিশেষ ধীরগতির ট্রেন চালু রয়েছে। ৩৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ ৩৮টি শহরকে সংযুক্ত করে এবং আশপাশের ৯৭টি জনপদে যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়।
এই ট্রেনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ভাড়া। কয়েক দশক ধরে টিকিটের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। পুরো যাত্রার জন্য ভাড়া মাত্র ২৬.৫ ইউয়ান এবং সর্বনিম্ন ভাড়া মাত্র ২ ইউয়ান। এত কম খরচে এই সেবা গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে।
এই ট্রেনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ বাজার করা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা স্কুলে যাতায়াত সবকিছু সহজে করতে পারছে। বিশেষ করে কৃষক ও খামারিদের জন্য এটি পণ্য পরিবহনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
চলতি বছর পর্যন্ত এসব অঞ্চলে ৮১টিরও বেশি ধীরগতির ট্রেন রুট চালু রয়েছে। বিশ্বজুড়ে যখন দ্রুতগতির রেলব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে, তখন চীন এই ধীরগতির ট্রেনের মাধ্যমে নিশ্চিত করছে যে উন্নয়নের সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়।
সরকার এই ট্রেনগুলোকে লাভজনক না হলেও চালু রেখেছে, যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকে এবং কেউ উন্নয়নের বাইরে না পড়ে। ফলে এই ট্রেন এখন শুধু একটি যাতায়াত মাধ্যম নয়, বরং লাখো মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।









