জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভাগীয় ও জেলা শহরের নির্বাচিত ১৩৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে নেওয়া হয়, যেখানে প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর নির্ধারিত ছিল। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে এ বছর পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫, যেখানে পূর্বে এই পাস নম্বর ছিল ৪০।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন কলেজে ৩১টি বিষয়ে মোট ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ আসনসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থী মাত্র ২৭৩ জন বেশি। ফলে প্রায় সমানসংখ্যক ভর্তিচ্ছু থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, যারা পাস করবেন তারা সহজেই ভর্তির সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে যারা ফেল করবেন, তাদের জন্য ডিগ্রি পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ থাকবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম জানান, এ বছর পাস নম্বর ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাড়ে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় ওএমআর শিট মূল্যায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তবে দ্রুত ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে এবং আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আসনসংখ্যার তুলনায় পরীক্ষার্থী কম থাকায় পাস করলেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যেকোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ মিলতে পারে। তবুও অনেক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ জানান, দেশের ৮৮০টি কলেজে মোট আসন রয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৩৭৫টি সরকারি কলেজে ২ লাখ ৭০ হাজার ৫২০টি এবং ৫০৫টি বেসরকারি কলেজে ১ লাখ ৮২ হাজার ৩৫৫টি আসন রয়েছে। সরকারি কলেজগুলোতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি এবং বেসরকারি কলেজে আবেদন পড়েছে ৫৮ হাজার ৯১৯টি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনা, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক করা, ট্রেড কোর্স চালু করা এবং আগামী বছরের মধ্যে সেশনজট শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করে। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া, প্রবেশপত্র ও এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে রাখা, কালো কালির বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করা এবং মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন না করা। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর পর কাউকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।









