গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের পারুলিয়া ও বিন্দাই খাল খনন কাজটি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করে তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইউজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে খাল দুটি পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি।
উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেছেন, সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল, নদী ও জলাধার পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি খালের খনন কাজ শুরু হলো। খালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খনন সম্পন্ন হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। কৃষকরা সহজে জমিতে চাষাবাদ করতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলছিলেন, খাল খননের মাধ্যমে শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনই নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যেত, ফলে চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হতো। খাল খনন কাজ দ্রুত শেষ হলে তারা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছিল, ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এ প্রকল্পের আওতায় খালের নির্দিষ্ট অংশে পলি অপসারণ, তীর সংরক্ষণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে শ্রীপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান ভূঁইয়া বলেছিলেন, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি করা হবে। কাজের মান বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।









