আগামীকাল রবিবার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।
শনিবার (২ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ।
তিনি জানান, এবারের সম্মেলন চলবে ৩ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত। গতবারের তুলনায় এবার সম্মেলনের মেয়াদ একদিন বেশি রাখা হয়েছে। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচিতে রয়েছে—ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শক্তিশালী করা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন। বাকি অধিবেশনগুলোতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা থাকবে।
তিনি জানান, ৩ মে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্দেশনা গ্রহণ, ৪ মে জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্দেশনা গ্রহণ এবং ৫ মে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্দেশনা গ্রহণের সূচি রয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব প্রস্তাবে জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ হ্রাস করা, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইন-কানুন বা বিধিমালা সংশোধন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
সম্মেলন থেকে কী ফল আসতে পারে—এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব অভিমত দেন, মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে জেলা প্রশাসকরা নানা ধরনের আইনগত, প্রশাসনিক, আর্থিকসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। পাশাপাশি নিজ নিজ জেলার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোও তারা চিহ্নিত করেন। এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, সিনিয়র সচিব এবং সচিবদের উপস্থিতিতে সরাসরি আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কার্যকর উপায় নির্ধারণ এবং সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর কৌশল ঠিক করা হবে।
তিনি আরও বলেছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নীতি, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও জেলা প্রশাসকরা বিস্তারিত ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানো, সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
আগামী ৬ মে বুধবার সম্মেলনের সমাপ্তি হবে।









