প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই ইসলামের চূড়ান্ত বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।” (সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য হবে জান্নাত অথবা জাহান্নাম। হজরত ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তিকে তার আসল ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হয় সে জান্নাতি হলে জান্নাত এবং জাহান্নামী হলে জাহান্নাম। এরপর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার চূড়ান্ত আবাস। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১০৭২)
বাস্তব জীবনে অনেকেই মৃত আত্মীয়-স্বজনকে স্বপ্নে দেখে থাকেন। এ বিষয়ে ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখার দুটি সম্ভাবনা থাকে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক।
যদি স্বপ্নে মৃত ব্যক্তিকে কষ্টে দেখা যায় বা মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তাহলে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। পাশাপাশি তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া, সদকা ও নেক আমল করা উত্তম, যাতে তার কাছে সওয়াব পৌঁছে।
অন্যদিকে, যদি স্বপ্নে মৃত ব্যক্তিকে শান্ত, হাস্যোজ্জ্বল বা ভালো অবস্থায় দেখা যায়, তাহলে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করা এবং তার জন্য ভালো ধারণা রাখা উচিত।
তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, স্বপ্ন শরিয়তের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তাই স্বপ্ন দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং সবসময় মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা এবং তার কল্যাণ কামনা করাই উত্তম।









