বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে লিভারের জটিল রোগ মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এমএএসএলডি) নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই আশঙ্কাজনক চিত্র। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৮০ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেস, ইনজ্যুরিস অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ল্যানসেট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি সাময়িকীতে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, আগে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নামে পরিচিত এই রোগ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিস্তারমান লিভার রোগ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। গত তিন দশকে আক্রান্তের হার বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ছয়জনের একজন, প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ এই রোগে ভুগছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্থূলতা বৃদ্ধি এবং রক্তে অতিরিক্ত শর্করার মাত্রাই এই রোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ। ১৯৯০ সালে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ কোটি, সেখানে ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটিতে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা আরও ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৪ হাজার ৪২৯ জন এই রোগে আক্রান্ত, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায় এবং ৮০ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এর হার সর্বোচ্চ। তবে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৩৯ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীরা।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উচ্চ রক্তে শর্করা, অতিরিক্ত বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) এবং ধূমপান এই রোগের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে এই রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি হলেও, বিশ্বজুড়ে প্রায় সব দেশেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গবেষকদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: ল্যানসেট, দ্য গার্ডিয়ান








