সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে পারে যে একটিমাত্র খাবার
প্রকাশ:

বিস্তারিত
দিনভর কাজের মাঝেই ঝিমিয়ে পড়া-দুপুর গড়ালেই অনেকের শরীরে নেমে আসে ক্লান্তি ও অলসতা। সেই সময় চা, কফি, মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে সাময়িক উদ্যম ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে সম্প্রতি একটি ‘এনার্জি বল’-এর পরামর্শ দিয়েছেন লন্ডনভিত্তিক চিকিৎসক রুপি অজুলা, যিনি (ইমার্জেন্সি মেডিসিন) প্র্যাকটিশনার হিসেবে কাজ করেন।
নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেছেন, দুপুরের পরের ক্লান্তি অনেকেরই সাধারণ সমস্যা।এই ক্লান্তি কাটাতে প্রতিদিন একটি করে এনার্জি বল খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার দাবি, এতে দীর্ঘ সময় শরীরে শক্তি বজায় থাকতে পারে।
কী কী উপকরণ লাগবে?
১২টি এনার্জি বল তৈরি করতে প্রয়োজন হবে-
১৫০ গ্রাম খোসাসহ পেস্তা
১৫০ গ্রাম মেজদুল খেজুর (কুচানো)
২ টেবিল চামচ কাকাও পাউডার
২ টেবিল চামচ হেম্প সিডস (না থাকলে কাকাও পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে)
৩ টেবিল চামচ তিল বাটা
১ টেবিল চামচ নারকেল তেল বা ঘি
উপরে দেওয়ার জন্য সামান্য পেস্তা গুঁড়ো
কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে খেজুর কুচি হালকা গরম পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর পানি ঝরিয়ে নিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে পেস্তা গুঁড়োয় গড়িয়ে নিতে হবে। এরপর বায়ুরোধী পাত্রে রেখে ফ্রিজে অন্তত এক ঘণ্টা রাখলেই তৈরি হয়ে যাবে এনার্জি বল।
ফ্রিজে রাখলে এটি ৫–৭ দিন ভালো থাকে, আর ফ্রিজারে সংরক্ষণ করলে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত রাখা সম্ভব।
এনার্জি বল কেন কাজ করবে?
চিকিৎসকের মতে, পেস্তা ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং এতে প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার রয়েছে। তিল ও কাকাও পাউডার মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ ও মুড ভালো রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে খেজুরের প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দেয়।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রতিটি এনার্জি বলে প্রায় ৫ গ্রাম প্রোটিন ও ৩ গ্রাম ফাইবার থাকতে পারে, যা ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করে।
সতর্কতা
যদিও এটি স্বাস্থ্যকর, তবুও অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। দিনে ১-২টি গ্রহণ করাই যথেষ্ট।পুষ্টিবিদরা বলছেন, এমন ঘরোয়া স্ন্যাকস উপকারী হলেও ব্যক্তিভেদে শরীরের চাহিদা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা উচিত।







