হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর প্রমাণিত সহজ উপায়
প্রকাশ:

বিস্তারিত
প্রতিদিনের ব্যস্ততা, অনিয়ম আর চাপের ভিড়ে অজান্তেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি নিজের হৃদযন্ত্রকে। বিশ্বজুড়ে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক-এর আতঙ্ক, আর উদ্বেগজনকভাবে তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগের প্রবণতা।
চিকিৎসকদের মতে, এই ঝুঁকির বড় অংশই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব—যদি সময়মতো বদলে ফেলা যায় জীবনযাত্রার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। কারণ, প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে আপনার হার্ট কতটা সুরক্ষিত থাকবে। তাই এখনই সচেতন হওয়ার সময়—জানুন, কোন ৯টি পরিবর্তন আপনাকে রাখতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে দূরে।
জেনে নেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর ৯টি সহজ নিয়ম :
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো
যে বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন, যে পানি পান করছেন, যে খাবার খাচ্ছেন, সব জায়গাতেই এখন ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি রয়েছে। এগুলো শরীরে গিয়ে ধীরে ধীরে প্রদাহ তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে হার্টের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই জীবন থেকে প্লাস্টিকের পরিমাণ কমানো দরকার।
ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়া
খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের মতো খাবার হার্টের জন্য খুব উপকারী। এতে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের স্বাস্থ্যরক্ষা করে। নিয়মিত এই ধরনের পুষ্টিকর খাবার খেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে।
রোদের সংস্পর্শে থাকা
সূর্যের আলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলছেন চিকিৎসকেরা। নতুন প্রজন্মের কাজকর্ম মূলত ঘরের ভিতর এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু নিয়মিত সূর্যের আলো শরীরের নানা প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উপর ভাল প্রভাব ফেলতে পারে। ধমনীর প্ল্যাক জমার সমস্যায় বাধাঁ দেয় বলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুমকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু পর্যাপ্ত ও ভাল ঘুম না হলে শরীর ঠিক মতো নিজেকে মেরামত করতে পারে না। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্রামে থাকা অবস্থায় শরীরে কোষের মেরামত থেকে বিপাকক্রিয়া সবই সক্রিয় থাকে। সেই সময়টা শরীরকে দেওয়া উচিত। তাতেই বহু রোগ থেকে দূরে থাকা যায়।
সক্রিয় থাকা
শরীরকে নড়াচড়া করা দরকার। আজকাল বসে বসে কাজ করার প্রবণতা বেড়েছে অনেকাংশে। এই সহজ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটা,সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম- যাইহোক, শুরু করা দরকার। বসে থাকার অভ্যাস কমাতে হবে।
মানসিক চাপ কমানো
হার্টের শত্রু মানসিক চাপ। দীর্ঘ দিনের চাপ শরীরে এমন পরিবর্তন আনে, যা হার্টের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই নিজের মতো করে চাপ কমানোর উপায় খুঁজে নেওয়া দরকার।
ঘরের পরিবেশ সুস্থ রাখা
নিজের থাকার জায়গাটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে যদি আর্দ্রতা, ছত্রাক বা জীবাণুর সমস্যা থাকে, তা দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের ক্ষতি করতে পারে, এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরীক্ষা করানো
শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই হবে না, শরীরের ভিতরের অবস্থাও জানা দরকার। নিয়মিত কিছু পরীক্ষা করিয়ে শরীরের প্রদাহ, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা রাখা ভাল।
ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ব্যবহার কমানো
ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো দরকার। বিশেষ করে ঘুমের সময়ে মোবাইল বা অন্যান্য যন্ত্র দূরে রাখা ভাল। এ সব থেকে হার্টে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।







