ওজন কমাতে যে ভুল ডেকে আনে বিপদ
প্রকাশ:

বিস্তারিত
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা অনেকেই এখন ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে উদ্যোগী হচ্ছেন। কখনও জীবনযাত্রার প্রয়োজনে, কখনও আবার দেহের গঠন সুন্দর রাখতে অনেকে কঠোর ডায়েটের পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে পুষ্টিবিদেরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী ফল পেতে হঠাৎ কোনও ডায়েট বেছে না নিয়ে, ধীরে সুস্থে শরীর বুঝে এগোনো দরকার, না হলেই হতে পারে বিপদ।
পন্থা যদি ঠিক না থাকে, ডায়েটে কমতি রয়ে যায়, ওজন কমলেও, অনেক সময় তার খেসারত দিতে হয় শরীরকে।ওজন কমাতে গেলে পুষ্টিবিদেরাও কার্বোহাইড্রেট, শর্করার মাত্রা কমিয়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার ডায়েটে রাখতে বলেন।
জেনে নেই ডায়েটে আমরা কি ভুল করি:
১. পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া
ওজন কমাতে গিয়ে আমরা প্রথম যে ভুলটি করি তা হলো, পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া। মেদ কমানোর জন্য আমাদের দৈনন্দিন খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হয়। তাই কম খেলেও খাবারটা হওয়া চাই যথেষ্ট পুষ্টিকর। পাতে যেন সবজিজাতীয় খাবার বেশি বেশি থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২.প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া
ওজন কমাতে গেলে প্রোটিন জরুরি।পুষ্টিবিদ আমরিন শেখ জানিয়েছেন, প্রোটিন মূলত পেশি গঠনের জন্য দরকার হয়। যারা সুঠাম শরীর তৈরির জন্য ডায়েট করছেন, নিয়মিত জিমে যান বা ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করেন, প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা তাদেরই সবচেয়ে বেশি। যাদের দৈহিক শ্রম বা কায়িক শ্রম কম হয় তাদেরও প্রোটিন দরকার হয় ঠিকই, তবে কম মাত্রায়। না হলে, অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে ক্যালোরি হিসাবে সঞ্চিত হতে পারে, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩.খুব দ্রুত উন্নতি আশা করা
খুব দ্রুত ওজন কমানোর আশা করা বোকামি। এক সপ্তাহে বেশি ওজন কমালে তার প্রভাব শরীরের উপরে পরে।তাই ধৈর্য্য রেখে ধীরে ধীরে ওজন কমাতে হবে।
৪.একই ধরনের ব্যায়াম বারবার করা
একই ধরনের ব্যায়াম নিয়মিত করতে করতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। ফলে কোনো নতুন ব্যায়াম শেখা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে ওঠে। কিন্তু শরীরের মেদ দ্রুত কমাতে একই ধরনের ব্যায়াম বারবার না করে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম নিয়মিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
৫.অতিরিক্ত শরীরচর্চা করা
নিয়মিত শরীরচর্চা যেমন উপকারী, তেমন অতিরিক্ত ব্যায়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই পরিমিত ব্যায়াম করতে হবে। টানা শরীরচর্চা না করে মধ্যে পর্যাপ্ত বিরতি নিন। এতে আপনার মাংসপেশি সুস্থ থাকবে।
৬.না খেয়ে থাকা বা খাবার বাদ দেওয়া
সকালের নাস্তা বা রাতের খাবার বাদ দিলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায় এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
৭.পর্যাপ্ত পানি পান না করা
পানির অভাবে মেটাবলিজম কমে যায় এবং শরীর বিষাক্ত পদার্থ বের করতে পারে না।
চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা মনে করছেন,ডায়েটে প্রোটিনের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ সমৃদ্ধ খাবারেরও প্রয়োজন রয়েছে। ঠিক সেই কারণে, ডায়েট কেমন হবে তা নির্ভর করবে ব্যক্তিবিশেষের উপরে।







