ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষিত মুরগির মাংস নানা কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই রান্নার আগে মাংস ঠিক আছে কি না তা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। সুপারশপ থেকে কেনা কাটা মাংস কিংবা সসেজ বা নাগেটের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রেও এগুলো টাটকা নাকি দীর্ঘদিনের পুরোনো—তা দেখে নেওয়া উচিত।
মাংস নিরাপদ কি না, তা এর রং, গন্ধ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য দেখে কিছুটা বোঝা সম্ভব। যদি মাংস নিরাপদ মনে না হয়, তাহলে তা খাওয়া বা কাউকে খাওয়ানো উচিত নয়। কাঁচা মাংস বহন ও রান্নার সময়ও কিছু সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার।
মুরগির মাংস টাটকা নাকি বাসি কীভাবে বুঝবেন
টাটকা মুরগির মাংস সাধারণত হালকা গোলাপি রঙের হয়। অন্যদিকে বাসি মাংস দেখতে মলিন লাগে। মাংসে ধূসর, হলুদ বা সবুজাভ রং দেখা গেলে তা ফেলে দেওয়া উচিত। জীবাণুর উপস্থিতির কারণে এ ধরনের রঙের পরিবর্তন হতে পারে।
টাটকা মাংসের কোনো তীব্র গন্ধ থাকে না, থাকলেও তা খুবই হালকা ও স্বাভাবিক ধরনের হয়। কিন্তু বাসি মাংসে অস্বস্তিকর গন্ধ পাওয়া যায়। জীবাণু জন্মালে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে এবং অনেক সময় টক ধরনের গন্ধও পাওয়া যায়।
এছাড়া জীবাণু সংক্রমিত হলে মাংস অতিরিক্ত পিচ্ছিল বা অস্বাভাবিকভাবে নরম হয়ে যেতে পারে। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে নির্দিষ্ট অংশ দেবে যেতে পারে এবং আঠালো ভাবও দেখা দিতে পারে।
কেনার পর কীভাবে সংরক্ষণ করবেন
শুধু নিরাপদ মাংস নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়; বরং এর রস যেন বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। বাজার বা সুপারশপ থেকে মাংস আনার পর ব্যাগ বা কার্টে রাখার আগে ভালোভাবে মুড়িয়ে নেওয়া উচিত।
মাংস ব্যাগ বা কার্টের নিচের অংশে রাখা ভালো, যাতে এর রস অন্য খাদ্যপণ্যে না লাগে। সম্ভব হলে মাংস বহনের জন্য আলাদা ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত। ফ্রিজে রাখার সময় বায়ুরোধী (এয়ারটাইট) বক্স বা জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে, যাতে অন্য খাবারে মাংসের রস না লাগে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ফ্রিজে রাখা খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই লোডশেডিং হলে ফ্রিজের দরজা যতটা সম্ভব কম খোলা উচিত।
আরও যেসব সতর্কতা প্রয়োজন
কাঁচা মাংস সবসময় অন্যান্য খাদ্যপণ্য থেকে আলাদা রাখতে হবে।
রান্নার আগে মাংস ধোয়ার সময় ধীরে ধীরে পানি দিতে হবে, যাতে পানি চারদিকে ছিটকে না পড়ে।
মাংস কাটার পর ছুরি বা বঁটি গরম পানি ও সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। যেখানে মাংস কাটা বা ধোয়া হয়েছে এবং যেসব স্থানে পানি পড়েছে, সেগুলোও একইভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।
কাঁচা মাংস স্পর্শ করার আগে ও পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
সবশেষে মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাওয়া উচিত এবং আধা সেদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা উত্তম।








